বিশ্বব্যাপী পালিত হবে মুজিববর্ষ

Sohag Sheikh ১০ জানুয়ারী, ২০২০ জাতীয়
img

আগামী ১৭ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী সালকে মুজিববর্ষ হিসেবে পালন করবে সরকার। বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলনের এ মহানায়কের শতবর্ষ ঘিরে মহোৎসবে রূপ নেবে দেশ।

শুধু দেশ নয়, দেশের বাইরেও অধিকাংশ দেশে উদযাপিত হবে মুজিববর্ষ, অর্থাৎ বিশ্বব্যাপী পালিত হবে মুজিববর্ষ। রাজনীতির এ মহাকবির আদর্শ তুলে ধরা হবে নতুন প্রজন্মের মধ্যে, যার মাধ্যমে উঠে আসবে বাংলাদেশসহ ভারতবর্ষের সঠিক ইতিহাস।তথ্য মতে, মুজিববর্ষকে সর্বজনীন করতে সরকারিভাবে নেয়া হয়েছে সব ধরণের উদ্যোগ। বছর জুড়ে সারা দেশে পালিত হবে প্রায় ৩ শতাধিক অনুষ্ঠানমালা, অর্থাৎ তৃণমূল হতে কেন্দ্র পর্যন্ত থাকবে উৎসবের আমেজ।

এছাড়া বাংলাদেশ আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনও নানা উদ্যোগ নিয়েছে। বিদেশে বাংলাদেশের ৭৭টি মিশনে ২৬১টি কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।১৭ মার্চ শুরু হতে যাওয়া মুজিববর্ষের সময় গণনা শুরু হচ্ছে আজ ১০ জানুয়ারি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তেজগাঁওয়ের পুরনো বিমানবন্দরের প্যারেড গ্রাউন্ডে কাউন্টডাউন উদ্বোধন করবেন আজ। সেখানে বঙ্গবন্ধুকে প্রতীকীভাবে অভ্যর্থনা জানানো হবে। মুজিববর্ষ সফলভাবে উদযাপনে দুটি জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সভাপতি করে ১০২ সদস্যবিশিষ্ট ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্য করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা, জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) ট্রাস্টি রেদওয়ান মুজিব সিদ্দিকসহ বর্তমান ও সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভিসি, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, লেখক, শিল্পী, ক্রীড়াবিদ, নাট্যজন, সাংবাদিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্যসচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরীকে জাতীয় কমিটিতে সদস্যসচিব করা হয়েছে।

এছাড়া জাতীয় অধ্যাপক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামকে সভাপতি করে ৬১ সদস্যবিশিষ্ট ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। বাস্তবায়ন কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্যসচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। দুটি কমিটিকেই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সাচিবিক সহায়তা প্রদান করবে।

আগামী ১৭ মার্চ ২০২০ থেকে ২০২১ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী যথাযথভাবে পালনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নীতি, পরিকল্পনা ও কর্মসূচি অনুমোদন করবে এই কমিটি। এই কমিটি ‘জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি’কে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেবে। বাস্তবায়ন কমিটি উদযাপন সংক্রান্ত সার্বিক পরিকল্পনা, কর্মসূচি ও বাজেট প্রণয়ন এবং জাতীয় কমিটির অনুমোদন নিয়ে তা বাস্তবায়ন করবে। এছাড়া ৮টি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বাস্তবায়ন কমিটি সূত্র মতে, মুজিববর্ষ ঘিরে আগামী ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত প্রায় ৩ শতাধিক অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা রয়েছে। জাতীয় কমিটির উদ্যোগে সারা দেশে অনুষ্ঠিত হবে বেশ কিছু অনুষ্ঠান। মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ সরকারি দফতরগুলো আলাদা অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে।

অর্থাৎ প্রতিটি মন্ত্রণালয় এবং অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইউনিয়ন পর্যায়েও কর্মসূচি পালিত হবে। এছাড়া ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস, ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের মুজিবনগর সরকার দিবস, ২১ শে ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস, ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসসহ নিয়মিত অনুষ্ঠান বা কর্মকাণ্ডেও মুজিববর্ষ সংযুক্ত করা হবে।

আওয়ামী লীগ সূত্র মতে, বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস, জন্মদিন, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি, জেলহত্যা দিবসের কর্মসূচিসহ অন্যান্য কর্মসূচি মুজিববর্ষের কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বিতভাবে পালন করা হবে। অর্থাৎ বছর জুড়ে দলীয় সব কর্মসূচিতে জাতির পিতাকে আলাদাভাবে তুলে ধরা হবে।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে বিশ্ব আয়োজন : শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্ব জুড়ে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী। ইউনেস্কোর সদর দপ্তর প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর ৪০তম সাধারণ অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যার ফলে ইউনেস্কোভুক্ত বিশ্বের ১৯৫টি দেশে উদযাপন হবে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী। বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন আরো ব্যাপক পরিসরে অবহিত করা হবে।

জানা যায়, ইউনেস্কো শিক্ষা, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করে। ৫০ বছর বা এর গুণিতক যেকোনো বার্ষিকী যদি ইউনেস্কোর কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হয়, তাহলে ঐ দিবস যৌথভাবে পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সেই হিসেবে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত মুজিববর্ষের বিশ্বস্বীকৃতি দেয় ইউনেস্কো। এর ফলে ইউনেস্কো বা এর ১৯৫ সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ বা দ্বিপাক্ষিকভাবে এই দিবসটি পালন করতে পারবে বাংলাদেশ।

এছাড়া বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে স্মৃতি জড়িয়ে আছে; এমন শহর ছাড়াও বাংলাদেশিরা বসবাস করেন সেইসব শহরেও নানা আয়োজন করা হবে। এর মধ্যে দিল্লি, কলকাতা, আগরতলা, নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন, লন্ডন, সিডনি শহরে উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। ২০২০ সালের কলকাতা বইমেলা বঙ্গবন্ধুর প্রতি উৎসর্গ করা হবে। কলকাতা ও আগরতলায় যৌথ প্রকাশনা, মিডিয়া কনফারেন্স, ডকুমেন্টারি এবং সেমিনারের আয়োজন করা হবে, যাতে একাত্তরে উপস্থিত ভারতীয় সাংবাদিকদের অভিজ্ঞতা বর্ণনা থাকবে।

বছর জুড়ে আসছেন বিশ্ব নেতারা : মুজিববর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আগামী ১৭ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ঘিরে থাকছে নানা চমক। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতা ও সরকারি দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা উপস্থিত থাকবেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ান, জাতিসংঘের সাবেক প্রেসিডেন্ট বান কি মুন, ওআইসি সেক্রেটারি জেনারেল ইউসুফ আহমেদ আল-ওথাইমিন, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মুহাম্মদ, ভুটানের রাজা, ভারতের সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো মুজিববর্ষে অনুষ্ঠানে আসার সম্মতি দিয়েছেন। বছরজুড়ে আয়োজিত অন্যান্য অনুষ্ঠানে বিশ্বনেতারা যোগ দেবেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, যথাযথ মর্যাদায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে আমাদের কাজের বেশ কিছু অগ্রগতিও হয়েছে। এ উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশের ৭৭টি মিশনে ৩’শতর মতো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে তিনটি বঙ্গবন্ধু চেয়ার স্থাপন করা হয়েছে। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা একটি বঙ্গবন্ধু সেন্টার স্থাপন করেছি। পাকিস্তানের মিশনে আমরা বঙ্গবন্ধুর বড় একটি ম্যুরাল স্থাপন করছি। চারটি দেশের বড় বড় শহরে বঙ্গবন্ধুর নামে রাস্তার নামকরণ করা হচ্ছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শুধু উপস্থিত নয়, মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বলে ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু সংবাদে’ জানানো হয়েছে। ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলীকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, প্রায় ৩৯ জন বিশ্বনেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। তাদের অনেকে ইতোমধ্যে আসার জন্য সম্মতি জানিয়েছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং তিনি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। ঢাকার কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন নরেন্দ্র মোদিই অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য দেবেন।

বঙ্গবন্ধুকে ডক্টর অব লজ ডিগ্রি দেবে ঢাবি : মুজিববর্ষ উপলক্ষে ২০২০ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘ডক্টর অব লজ’ ডিগ্রি (মরণোত্তর) প্রদান করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২তম সমাবর্তনে এ ডিগ্রি প্রদান করা হবে।

সমাবর্তনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ও রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সভাপতিত্ব করবেন। সমাবর্তনে বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের কসমিক রে রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. তাকাকি কাজিতা। তাকে সম্মানসূচক ‘ডক্টর অব সায়েন্স’ ডিগ্রি প্রদান করা হবে।

জাতীয় সংসদের বিশেষ আয়োজন : জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ১৮ মার্চ বিশেষ অধিবেশন বসবে জাতীয় সংসদে। সেখানে উপস্থিত থাকবেন বিদেশি আমন্ত্রিত অতিথিরা। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর পক্ষ থেকে বিশ্বের সব দেশের পার্লামেন্টের স্পিকারের কাছে পাঠানো হবে বিশেষ উপহার প্যাকেট। প্যাকেটে থাকবে বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনীর ইংরেজি ভার্সন, প্রকাশনা, ব্রুসিয়ার, মেমোরিয়াল কয়েন। এছাড়া দেশি-বিদেশি অতিথিদের অংশগ্রহণে থাকবে সেমিনার ও সিম্পোজিয়াম। এছাড়া সংসদ ভবনের সামনে বঙ্গবন্ধুর স্মরণে তৈরি করা হবে বঙ্গবন্ধু মঞ্চ। বছরব্যাপী ওই মঞ্চে থাকবে নানা আয়োজন। বেশকিছু সেমিনার, ওয়ার্কশপ থাকবে বঙ্গবন্ধুর ওপরে।

১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে সর্বপ্রথম বাংলায় ভাষণ দেন বঙ্গবন্ধু। এ বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর বাংলায় ভাষণ প্রদানের গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা হবে। বাংলাদেশেও আলোচনা ও সেমিনার করা হবে। ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি জাতির জনককে বঙ্গবন্ধু উপাধি দেওয়া হয়।

২০২১ সালের ওই দিনটিকে স্মরণীয়ভাবে উদযাপন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ওইদিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ইতোমধ্যেই ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পেয়েছে। ঐদিনটিকেও বিশেষভাবে পালনের উদ্যোগ নেয়া হবে। এবারের অমর একুশে বইমেলা- ২০২১ বঙ্গবন্ধুকে উৎসর্গ করা হবে। জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে নভেম্বর মাসে ঢাকা আন্তর্জাতিক বইমেলা করা হবে।

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রদত্ত স্বাধীনতার ঘোষণা ২৫টি দেশের যেসব গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় তা সংগ্রহ ও প্রকাশ করা হবে। ইউটিউব, ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসমূহে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে নিয়ে নির্মিত কনটেন্ট আপলোড করা হবে। সরকারি ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে জাতীয় সংবাদে গুরুত্বের সঙ্গে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্বাচিত ভাষণের অংশবিশেষ এবং জন্মশতবার্ষিকীর খবর প্রচার করা হবে।

বঙ্গবন্ধুর নামে একটি আর্কাইভ স্থাপন করে সেখানে তাকে নিয়ে প্রকাশিত সব লেখা ও অডিও-ভিডিও প্রকাশনা রাখা হবে। দেশের সব লাইব্রেরিতে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নার স্থাপন করা হবে। ট্রেন ও জাহাজে জন্মশতবার্ষিকীর লোগো-ট্যাগ লাইন দিয়ে সাজানো হবে। চালু করা হবে বিশেষ ট্রেন (ফ্রি) সার্ভিস। হালদা নদীকে ‘বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ’ ঘোষণা করা হবে।

সারা দেশে থাকবে যাত্রা ও লোকনাট্য, জেলা পর্যায়ে ৬৩টি নৃত্যানুষ্ঠান আয়োজন। দেশ ও বিদেশে চারুকলার প্রদর্শন, যা ১০টি ঘটনার ওপর ভিত্তি করে বৃহৎ আকারের (১০টি ৮ফুট/২৪ ফুট) ১০টি বাস্তবধর্মী চিত্রকর্ম আঁকা হবে। ১০টি নতুন মঞ্চনাটক, পথনাটক নির্মাণ করা হবে। ৬৪ জেলায় ১টি নাটক ও ১টি পথনাটক প্রদর্শন করা হবে। ৮টি বিভাগে ৮টি নাটক উৎসব হবে।

বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলমান ৫০টি নাটককে সহায়তা প্রদান করা হবে। ৫টি শিশুনাটক নির্মাণ ও ২০টি প্রদর্শনী হবে। দেশব্যাপী শতকণ্ঠে আমার পরিচয় কবিতা, বঙ্গবন্ধুর প্রিয় কবিতা ও তাকে নিয়ে রচিত কবিতা নিয়ে আবৃত্তি অনুষ্ঠান হবে। বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ও ‘কারাগারের রোজনামচা’ থেকে ১ ঘণ্টার পাণ্ডুলিপি নিয়ে ২টি অনুষ্ঠান করা হবে।

মেতে থাকবে ক্রীড়াঙ্গন : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উৎসবে মেতে উঠবে দেশের ক্রীড়াঙ্গন। ৩৬টি আন্তর্জাতিক এবং ৪৮টি জাতীয় প্রতিযোগিতা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকী জাতীয় ক্রীড়া উপ কমিটি। কেন্দ্রীয়, বিভাগীয়, জেলা, উপজেলা পর্যায়ে এসব আয়োজন করা হবে।

আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, কাবাডি, হ্যান্ডবল ও শুটিংকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। আয়োজনের মধ্যে থাকবে- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপ ফুটবল-২০২০, ২টি আন্তর্জাতিক টি-২০ ক্রিকেট ম্যাচ।

জাতির পিতার নামে আন্তর্জাতিক হকি টুর্নামেন্ট, আন্তর্জাতিক সাফ অ্যাথলেটিকস্ চ্যাম্পিয়নশিপ, বিশ্ব কাবাডি প্রতিযোগিতা, আন্তর্জাতিক ভলিবল প্রতিযোগিতা, আন্তর্জাতিক রোলবল গোল্ডকাপ, আন্তর্জাতিক হ্যান্ডবল প্রতিযোগিতা, ইন্টারন্যাশনাল এয়ারগান চ্যাম্পিয়নশিপ, আন্তর্জাতিক বয়সভিত্তিক সাঁতার প্রতিযোগিতা, ইন্টান্যাশনাল আরচ্যারি চ্যাম্পিয়নশিপ, থ্রি অন থ্রি (বিচ) বাস্কেটবল চ্যাম্পিয়নশিপ, আন্তর্জাতিক মহিলা বাস্কেটবল প্রতিযোগিতা, আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টারস দাবা প্রতিযোগিতা, আন্তর্জাতিক টেবিল টেনিস টুর্নামেন্ট, আন্তর্জাতিক টেনিস প্রতিযোগিতা।

জানতে চাইলে ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্যসচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, বছর জুড়ে প্রায় তিন শতাধিক অনুষ্ঠান হাতে নেয়া হয়েছে। সরকারের মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকলের অংশগ্রহণ থাকবে অনুষ্ঠান মালায়।

কেন্দ্র থেকে ইউনিয়ন পর্যায়েও এসব প্রোগ্রাম পালিত হবে। অর্থাৎ জাতির পিতাকে গোটা জাতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় স্মরণ করবে। আমরা সব ধরণের উদ্যোগ হাতে নিয়েছি। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ অবিভক্ত ভারতের পূর্ববঙ্গে বর্তমানে বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আগামী ১৭ মার্চ জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকী।

সম্পর্কিত পোস্ট

img
‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব . . . .
২০ জানুয়ারী, ২০২০
img
বঙ্গবন্ধুর নামের সাথে . . . .
২০ জানুয়ারী, ২০২০

আমাদের ফেইসবুক

রাশিফল

  • sagittarius

    মেষ

  • sagittarius

    বৃষ

  • sagittarius

    মিথুন

  • sagittarius

    কর্কট

  • sagittarius

    সিংহ

  • sagittarius

    কন্যা

  • sagittarius

    তুলা

  • sagittarius

    বৃশ্চিক

  • sagittarius

    মকর

  • sagittarius

    কুম্ভ

  • sagittarius

    মীন

  • sagittarius

    ধনু

  • মেষ (২১ জানুয়ারী-২৮ ফ্রেরুয়ারী)

    ব্যক্তিগত যোগাযোগ সাফল্যের দিগন্তে পৌঁছে দিতে পারে। দীর্ঘ দিনের লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়ন হতে পারে। প্রাণের মানুষ প্রাণের পরে পদাঘাত করতে পারে, সতর্ক থাকুন।আপনি সব ব্যথা সয়ে নিতে পারেন এটাও পারবেন।

  • বৃষ (২১ এপ্রিল-২১ মে)

    এসপ্তাহে হাতে যখন বেশ কিছু টাকা পয়সা আসবে তখন টাকাটা একটু কাজে লাগাবার চেষ্টা করুন। অতিথি, বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে মিলন ঘটবে। পরিবারের কেউ অসুস্থ হতে পারে।  মনের লেনাদেনা খারপ যাবেনা। 

  • মিথুন (২২ মে-২১ জুন)

    এসপ্তাহে আপনার দেহ মনের খবর ভাল। মনন চর্চায় নতুন উৎকর্ষে পৌঁছোবেন।

    পরিবার পরিজনের খোঁজ খবর রাখুন। সপ্তাহ জুড়ে ভাও যাবে সময়। 

     

     

  • কর্কট (২২ জুন-২২ জুলাই)

     

    খরচাটা একটু কমান। পূর্বের কোনো কর্মের ফল ভোগ করতে হতে পারে।। স্বল্প দূরত্বে ভ্রমণ হতে পারে। ছোট ভাইবোনের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো যাবে। প্রয়োজনে তাদের সমর্থন ও সহযোগিতা পাবেন।

  • সিংহ (২৩ জুলাই-২৩ আগস্ট)

     

    এসপ্তাহে টাকা পয়সা প্রাপ্তি আপনাকে উৎফুল্ল রাখবে। পরিবার বন্দু-বান্ধব উপকারে এগিয়ে আসবে। সাবধানে চলাচল করুন। একটু অসাবধানতার কারণে দুর্ঘটনায় পতিত হতে পারেন। 

  • কন্যা (২৪ আগস্ট-২৩ সেপ্টেম্বর)

    নতুন কাজে যুক্ত হতে পারেন। পেশাগত দিক ভালো যাবে। কর্মক্ষেত্রে সুনাম ও মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। সামাজিক অগ্রগতি অব্যাহত থাকবে। আয় উপার্জন বৃদ্ধির যোগ রয়েছে। 

  • তুলা (২৪ সেপ্টেম্বর-২৩ অক্টোবর)

    ধর্ম কর্মে মন নিবেশ হবে। ভাগ্যোন্নয়ণে প্রবীণ কারও দিকনির্দেশনা লাভ করতে পারেন। কর্মক্ষত্র থাকবে আপনার পক্ষে। বুঝে শুনে চললে ব্যবসা ভাল যাবে। 

  • বৃশ্চিক (২৪ অক্টোবর-২২ নভেম্বর)

    কাজের চাপ বাড়বে। কাজ ফেলে না রেখে রুটিন অনুসারে করার চেষ্টা করুন।মানসিক চাপ পাত্তা দেবেন না। নিজেকে সংযত রাখুন, অন্যথায় সামাজিক বদনামের শিকার হতে পারেন। আনন্দময় সময় কাটানোরও সুযোগ পেতে পারেন।

  • মকর (২২ ডিসেম্বর-২০ জানুয়ারি)

    শরীর খুব একটা ভালো নাও যেতে পারে। আহারে বিহারে সাবধানতা অবলম্বন করুন। কোনো ভুল সিদ্ধান্তের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশংকা রয়েছে। কর্মক্ষেত্রে দায় দায়িত্ব বাড়বে, বিতর্ক এড়িয়ে চলুন। 

  • কুম্ভ (২১ জানুয়ারি-১৮ ফেব্রুয়ারি)

    দূরদর্শী চিন্তাভাবনা আপনাকে সতেজ ও প্রাণবন্ত রাখবে। গবেষণামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য প্রশংসিত হতে পারেন।  সাময়িকভাবে শরীর কম ভালো যেতে পারে। 

  • মীন (১৯ ফেব্রুয়ারি-২০ মার্চ)

    আজ আপনার সেই ইচ্ছেটা  পূর্ণ হতে পারে। প্রেম ও দাম্পত্য বিষয়ে বোঝাপড়া সহজ হবে। কেউ কেউ স্থাবর সম্পত্তিতে বিনিয়োগ করতে পারেন।  ব্যবসায়িক দিক ভালো যাবে।

  • ধনু (২৩ নভেম্বর-২১ ডিসেম্বর)

    দাম্পত্য সম্পর্ক মোটামুটি ভালো যাবে। পারিবারিক সুখশান্তি বজায় থাকবে। কোনো বিষয়ে চুক্তি হতে পারে। কোনো ধরনের প্রতিযোগীতার সম্মুখীন হতে পারেন। বিশেষ কোনো দক্ষতার জন্য প্রশংসিত হতে পারেন।

পাঠক মতামত

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সরকারের কাছে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি মামাবাড়ির আবদার। তার এ বক্তব্যের সঙ্গে আপনি কি একমত?
ভোট দিয়েছেন জন
হ্যাঁ
না
মন্তব্য নেই