বঙ্গোপসাগরে দেখা দিয়েছে নীল বোতাম আতঙ্ক

Sohag Sheikh ৩১ মার্চ, ২০১৭ ফিচার
img

টিএনবিঃ খুবই ছোট্ট এবং রহস্যময় একটি সামুদ্রিক প্রাণির নাম ‘নীল বোতাম’। আমরা জামা-কাপড়ে যে বোতাম ব্যবহার করি দেখতে অনেকটা সে রকমই। আর গায়ের রং নীল বলেই নাম হয়েছে নীল বোতাম। সাগরের পানির উপরে এরা ভেসে বেড়ায়। প্রাণীটি বোতাম আকৃতির গোলাকার ডিস্ক সদৃশ অ্যাবোরাল অংশ ও অসংখ্য ঝুলন্ত টেন্টাকল এবং পলিপ সমৃদ্ধ ওরাল অংশের সমন্বয়ে গঠিত। অ্যাবোরাল অংশের উপরিভাগ বাতাস ধারণে সক্ষম অসংখ্য কাইটিনাস টিউব দ্বারা গঠিত। যার পরিধি ১৬ মিমি পর্যন্ত হতে পারে। এই অংশের সাহায্যে প্রাণীটি সমুদ্রের পানির উপরিভাগে ভেসে বেড়ায়। বাংলাদেশের সাগর উপকূলে আগে কখনো এটি দেখা যায়নি। তবে একদল গবেষক সম্প্রতি প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন উপকূলে সাগরের উপরিভাগে এই প্রাণীটিকে প্রথম ভেসে থাকতে দেখেন। বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলে হঠাৎ এই প্রাণীর উপস্থিতিকে অশনিসংকেত বলেই মনে করছেন সমুদ্রবিজ্ঞানীরা। কিন্তু আমাদের সাগর উপকূলে এই প্রাণীর দেখা পাওয়াটা কেন আতঙ্কের? চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজের পরিচালক মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধির অন্যতম নির্ণায়ক হচ্ছে নীল বোতাম। বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলে এ প্রাণীর উপস্থিতিই বলে দিচ্ছে এখানকার সমদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বাড়ছে। এটি ভাবনার বিষয়। পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে হাইড্র্রোজোয়া প্রজাতির এই প্রাণীর উপস্থিতি জলবায়ু পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বাংলাদেশ উপকূলে মার্চ এপ্রিলে এই প্রাণীর অস্তিত্ব বেশি দেখা যাচ্ছে যখন সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা এবং লবণাক্ততা বেশি থাকে। বিশেষ করে দক্ষিণপশ্চিম তীব্র মৌসুমি বায়ুপ্রবাহ, সমুদ্রপৃষ্ঠীয় তাপমাত্রা এবং সমুদ্রের পানির লবণাক্ততা বৃদ্ধির সঙ্গে এই প্রাণীর উপস্থিতির সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। এই প্রাণীটি কোপিপোড (প্রাণিজ খাদ্যকণা) এবং নানা সন্ধিপদী প্রাণীর লার্ভি খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে থাকে, যা অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীর খাদ্যসংকট ঘটিয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অধিক সংখ্যায় এই প্রাণীর উপস্থিতি সামুদ্রিক খাদ্যচক্রকেও প্রভাবিত করতে পারে। সর্বোপরি বাংলাদেশ উপকূলে এই প্রাণীর উপস্থিতি এবং সংখ্যায় বৃদ্ধি বঙ্গোপসাগরের মৎস্যসম্পদ ও জলজ জীববৈচিত্র্যকে প্রভাবিত করতে পারে। নীল বোতামের উপস্থিতি বলে দিচ্ছে, সেন্ট মার্টিন উপকূলে তাপমাত্রা বাড়ছে। তাপমাত্রা বাড়লে প্রবাল দ্বীপের ক্ষতি হতে পারে, মাছও কমে যেতে পারে। এতে জেলেদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে। মৎস্য খাতে রপ্তানি আয় কমে যাবে। তাপমাত্রা বাড়লে সমদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়বে। তখন জোয়ারের সময় উপকূলীয় এলাকাগুলো নিয়মিত প্লাবিত হবে। ২০১৪ সালের মার্চ মাসে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে গিয়ে প্রথম নীল বোতামের সন্ধান পান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজের গবেষকেরা। এ প্রাণীর নমুনা সংগ্রহের পর ইনস্টিটিউটের গবেষণাগারে নিবিড় শারীরবৃত্তীয় পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়। এরপর গবেষকেরা বাংলাদেশ উপকূলে এই প্রজাতির প্রাণীর উপস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হন। চলতি বছরের জুন মাসে জার্মানভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রকাশনা সংস্থা ‘স্প্রিঙ্গার’ এর ওশান সায়েন্স জার্নালের ৫১ (২) সংখ্যায় এ সংক্রান্ত গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। গবেষক দলের সমন্বয়ক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজের প্রভাষক মোহাম্মদ শাহ নেওয়াজ চৌধুরী। গবেষণা সহযোগিতা করেন একই ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মো. রাশেদ–উন–নবী, সাইদুর রহমান চৌধুরী, মো. শাহাদাত হোসেন ও সহযোগী অধ্যাপক এস এম শরীফুজ্জামান। মোহাম্মদ শাহ নেওয়াজ চৌধুরী বলেন, বিশ্বসমুদ্রের নানা অংশে হাইড্রোজোয়া শ্রেণির, বিশেষ করে ভাসমান জেলিফিশ প্রজাতির প্রাণীর আধিক্য আগের চেয়ে অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। ডেনমার্কভিত্তিক জীববৈচিত্র্যের তথ্য সংরক্ষণবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল ডাইভার্সিটি ইনফরমেশন ফ্যাসিলিটির (জিবিআইএফ) তথ্য অনুযায়ী প্রশান্ত, আটলান্টিক এবং ভারত মহাসাগরের ট্রপিক্যাল ও সাবট্রপিক্যাল অঞ্চলের প্রায় ৮৬টি পয়েন্টে এখন পর্যন্ত এই প্রাণীর অস্তিত্ব রেকর্ড করা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ উপকূলে এই প্রাণীর হঠাৎ উপস্থিতি সমুদ্রবিজ্ঞানীদের ভাবিয়ে তুলেছে। নীল বোতাম প্রাণী বিশ্বে প্রথম কখন কোথায় দেখা যায়, সেসংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই বলে জানান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দলের সদস্যরা। তাঁরা জানান, ১৯০৪ সালে পানামা উপকূলে এ প্রাণী দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্রে পাওয়া যায় ১৯৬৫ সালে। ভারতের তামিলনাড়ুর উপকূলে ২০১৩ সালে এ প্রাণীর উপস্থিতি শনাক্ত হয়। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়া, মেক্সিকো, নিউজিল্যান্ড, জাপান ও চীনের উপকূলে এ প্রাণী দেখা যায়। জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি সমুদ্রদূষণের কারণে ‘নীল বোতাম’ দেখা যেতে পারে বলে মনে করেন সেন্ট মার্টিন নিয়ে গবেষণা করা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের

সম্পর্কিত পোস্ট

আমাদের ফেইসবুক

রাশিফল

  • sagittarius

    মেষ

  • sagittarius

    বৃষ

  • sagittarius

    মিথুন

  • sagittarius

    কর্কট

  • sagittarius

    সিংহ

  • sagittarius

    কন্যা

  • sagittarius

    তুলা

  • sagittarius

    বৃশ্চিক

  • sagittarius

    মকর

  • sagittarius

    কুম্ভ

  • sagittarius

    মীন

  • sagittarius

    ধনু

  • মেষ (২১ জানুয়ারী-২৮ ফ্রেরুয়ারী)

    ব্যক্তিগত যোগাযোগ সাফল্যের দিগন্তে পৌঁছে দিতে পারে। দীর্ঘ দিনের লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়ন হতে পারে। প্রাণের মানুষ প্রাণের পরে পদাঘাত করতে পারে, সতর্ক থাকুন।আপনি সব ব্যথা সয়ে নিতে পারেন এটাও পারবেন।

  • বৃষ (২১ এপ্রিল-২১ মে)

    এসপ্তাহে হাতে যখন বেশ কিছু টাকা পয়সা আসবে তখন টাকাটা একটু কাজে লাগাবার চেষ্টা করুন। অতিথি, বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে মিলন ঘটবে। পরিবারের কেউ অসুস্থ হতে পারে।  মনের লেনাদেনা খারপ যাবেনা। 

  • মিথুন (২২ মে-২১ জুন)

    এসপ্তাহে আপনার দেহ মনের খবর ভাল। মনন চর্চায় নতুন উৎকর্ষে পৌঁছোবেন।

    পরিবার পরিজনের খোঁজ খবর রাখুন। সপ্তাহ জুড়ে ভাও যাবে সময়। 

     

     

  • কর্কট (২২ জুন-২২ জুলাই)

     

    খরচাটা একটু কমান। পূর্বের কোনো কর্মের ফল ভোগ করতে হতে পারে।। স্বল্প দূরত্বে ভ্রমণ হতে পারে। ছোট ভাইবোনের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো যাবে। প্রয়োজনে তাদের সমর্থন ও সহযোগিতা পাবেন।

  • সিংহ (২৩ জুলাই-২৩ আগস্ট)

     

    এসপ্তাহে টাকা পয়সা প্রাপ্তি আপনাকে উৎফুল্ল রাখবে। পরিবার বন্দু-বান্ধব উপকারে এগিয়ে আসবে। সাবধানে চলাচল করুন। একটু অসাবধানতার কারণে দুর্ঘটনায় পতিত হতে পারেন। 

  • কন্যা (২৪ আগস্ট-২৩ সেপ্টেম্বর)

    নতুন কাজে যুক্ত হতে পারেন। পেশাগত দিক ভালো যাবে। কর্মক্ষেত্রে সুনাম ও মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। সামাজিক অগ্রগতি অব্যাহত থাকবে। আয় উপার্জন বৃদ্ধির যোগ রয়েছে। 

  • তুলা (২৪ সেপ্টেম্বর-২৩ অক্টোবর)

    ধর্ম কর্মে মন নিবেশ হবে। ভাগ্যোন্নয়ণে প্রবীণ কারও দিকনির্দেশনা লাভ করতে পারেন। কর্মক্ষত্র থাকবে আপনার পক্ষে। বুঝে শুনে চললে ব্যবসা ভাল যাবে। 

  • বৃশ্চিক (২৪ অক্টোবর-২২ নভেম্বর)

    কাজের চাপ বাড়বে। কাজ ফেলে না রেখে রুটিন অনুসারে করার চেষ্টা করুন।মানসিক চাপ পাত্তা দেবেন না। নিজেকে সংযত রাখুন, অন্যথায় সামাজিক বদনামের শিকার হতে পারেন। আনন্দময় সময় কাটানোরও সুযোগ পেতে পারেন।

  • মকর (২২ ডিসেম্বর-২০ জানুয়ারি)

    শরীর খুব একটা ভালো নাও যেতে পারে। আহারে বিহারে সাবধানতা অবলম্বন করুন। কোনো ভুল সিদ্ধান্তের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশংকা রয়েছে। কর্মক্ষেত্রে দায় দায়িত্ব বাড়বে, বিতর্ক এড়িয়ে চলুন। 

  • কুম্ভ (২১ জানুয়ারি-১৮ ফেব্রুয়ারি)

    দূরদর্শী চিন্তাভাবনা আপনাকে সতেজ ও প্রাণবন্ত রাখবে। গবেষণামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য প্রশংসিত হতে পারেন।  সাময়িকভাবে শরীর কম ভালো যেতে পারে। 

  • মীন (১৯ ফেব্রুয়ারি-২০ মার্চ)

    আজ আপনার সেই ইচ্ছেটা  পূর্ণ হতে পারে। প্রেম ও দাম্পত্য বিষয়ে বোঝাপড়া সহজ হবে। কেউ কেউ স্থাবর সম্পত্তিতে বিনিয়োগ করতে পারেন।  ব্যবসায়িক দিক ভালো যাবে।

  • ধনু (২৩ নভেম্বর-২১ ডিসেম্বর)

    দাম্পত্য সম্পর্ক মোটামুটি ভালো যাবে। পারিবারিক সুখশান্তি বজায় থাকবে। কোনো বিষয়ে চুক্তি হতে পারে। কোনো ধরনের প্রতিযোগীতার সম্মুখীন হতে পারেন। বিশেষ কোনো দক্ষতার জন্য প্রশংসিত হতে পারেন।

পাঠক মতামত

রোহীঙ্গা ইস্যু নিয়ে মায়ানমার বাংলাদেশের সাথে বৈঠকে বসতে চায়, আপনি কি মনে করেন মায়ানমার সহজে বাংলাদেশ থেকে রোহীঙ্গাদের ফিরিয়ে নিয়ে যাবে ?
ভোট দিয়েছেন জন
হ্যাঁ
না
মন্তব্য নেই